ঢাকা | বুধবার | ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সরকার দ্বিগুণের বেশি দামে এলএনজি কিনছে মারাত্মক পরিস্থিতিতে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ঊর্ধ্বমুখী যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সরকার বড় একটি সিদ্ধান্ত নিলো। দ্বিগুণের বেশি দামে তিনটি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। এই তিন কার্গো শুল্কবোধ্য হবে—দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দুটি এবং যুক্তরাজ্য থেকে একটিই। এর জন্য মোট ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৬৫৪ কোটি ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ২৮০ টাকা।

বুধবার (১১ মার্চ) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন পাওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এ প্রক্রিয়া সাধারণ নিয়মের বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা হবে। চলতি বছরের ৫-৬ এপ্রিল, ৯-১০ এপ্রিল এবং ১২-১৩ এপ্রিল তিনটি একের পর এক কার্গো আনা পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাজ্য থেকে টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের মাধ্যমে এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রক্রিয়া চলবে। এই জন্য ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৪ টাকা ব্যয় হবে। এখানে প্রতি এমএমবিটিইউ’র দাম ধরা হয়েছে ২১.৫৮ ডলার। ২০২২ সালে ডিসেম্বরে ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকার বিনিময়ে, তখন প্রতি এমএমবিটিইউ’র দাম ছিল ১০.৩৭ ডলার। এর মানে, বর্তমানে, আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি দামে এলএনজি কেনা হচ্ছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও দ্বিগুণের বেশি অর্থ ব্যয় করে এলএনজি আনা হচ্ছে। পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশনের মাধ্যমে এক কার্গোটি কেনা হবে যার মূল্য ধরা হয়েছে ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৮ টাকা। প্রতি এমএমবিটিইউ’র দাম এখানে ২০.৭৬ ডলার। ডিসেম্বরে তুলনায়, এখানে ব্যয় দ্বিগুণের কাছাকাছি বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ডুবন্ত মূল্যবৃদ্ধি দেশের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাময় পরিস্থিতির কারণে। সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তবে এটি দেশের জিডিপি ও সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।