অভ্যুত্থানের পরে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবারো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। র্যাব বলছে, অনেক আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থি সদস্যও পুনরায় অপরাধের ধারায় ফিরে আসছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য দেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। তিনি বলেন, রাজধানীর আদাবর ও সিরাজগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তারা হলেন- পাবনা জেলার অস্ত্র ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেন ওরফে শুটার আলমগীর (৪৫) এবং রকিব রানা (৫৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এসব অস্ত্র চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে পাবনা অঞ্চলে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। র্যাবের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে দখলদারিত্বের জন্য চলমান সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পেছনে অস্ত্রের ব্যবহার থাকছে। বিশেষ করে, এই কার্তুজ ও অস্ত্রগুলো এলাকার বালুমহলে আধিপত্য বিস্তারের জন্য ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। র্যাবের ভাষ্য, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবারো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি সুন্দরবনের জলদস্যুরাও আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সাধারণ মানুষের মনোভাব ও অপরাধে প্রবণতা পরিবর্তিত হয়। সুন্দরবনের জলদস্যুরা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে আবারো অপরাধের সঙ্গাছে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। র্যাবের সবসময়ই চেষ্টা রয়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ও অপরাধে ফিরে আসা রোধ করার। তিনি বলেন, যারা ইতোমধ্যে অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে পরিচালিত বড় এক যৌথ অভিযানের ফলে প্রায় ৩ হাজর ৫০০ সদস্য অংশ নেন। এই অভিযানে একাধিক বিদেশি ও দেশি পিস্তল, এলজি, পাইপগান, কার্তুজ, গুলির পরিমাণ, ককটেলসহ প্রচুর অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় র্যাব-১২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠনের কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে। ২০২৩ সালে র্যাব-১২ এর প্রচেষ্টায় প্রায় ৩১৩ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করে পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, ২০২৪ সালের অগাস্টের পরে আবারো কিছু আত্মসমর্পণকারী সদস্য পুরানো কাণ্ডে জড়িত হতে দেখা যাচ্ছে, যার কারণে তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম যেন পুনরায় চরমপন্থি গ্রুপের হাতে না যায়। এই সকল কার্যক্রমে আমাদের সাফল্য এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।









