ঢাকা | সোমবার | ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

হরমুজ প্রণালি হয়ে ৪টি গ্যাসজাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে

হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে এসেছে চারটি গ্যাসবাহী জাহাজ, যারা এখন চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি আজ রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর ২টায় তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী একটি নামকরণকৃত জাহাজ ‘সেভেন’ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই জাহাজটি ওমানের সোহার বন্দর থেকে আসছে, যেখানে এর ধারণক্ষমতা ২২,১৭২ Metric Ton। আরও তিনটি গ্যাসজাহাজ বাংলাদেশ অভিমুখে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বন্দর সূত্র জানায়, কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আনা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ‘আল জোরা’ নামে একটি জাহাজ ৬৩,৩৮৩ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে ৩ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এটির পাশেই, ৫ মার্চ ভোর ১০টা ৩০ মিনিটে ‘আল জাসাসিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজ প্রায় একই সময় এ বন্দরে প্রবেশ করে, যাদের কার্গো ওজন ৬৩,৭৫৫ মেট্রিক টন।

এছাড়াও, রাস লাফান বন্দর থেকে ৬২,৯৮৭ মেট্রিক টন এলএনজি বহনকারী ‘লুসাইল’ জাহাজ সোমবার, ৯ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে। এই বন্দর থেকেই আরও দুটি জাহাজ অস্থির সময়সূচী নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি হলো, ৫৭,৬৬৫ মেট্রিক টন এলএনজি বোঝাই ‘আল গালা’েল, যা ১১ মার্চ পৌঁছাবে; অন্যটি হলো, ৬২,০০০ মেট্রিক টন এলএনজি বহনকারী ‘লেব্রেথাহ’, যা ১৪ মার্চ আসবে।

অন্যদিকে, ওমানের সোহার বন্দর থেকে আসা আরেকটি এলপি গ্যাসজাহাজ ‘জি-ওয়াইএমএন’ ১৯,৩১৬ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫:৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে পরিচালিত ‘বে-ইয়াসু’ জাহাজটি ৫ হাজার ১৯ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে ৫ মার্চ সকাল ১০:৪০ মিনিটে বন্দরে গেছিল।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সিনিয়র কর্মকর্তা সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, ইতোমধ্যে মোট ৮টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার চারটি ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়াও, আজকের মধ্যে আরও একটি জাহাজ বন্দরে আসবে এবং বাকী তিনটি পাইপলাইনে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধির কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও পরিবহন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশের বড় অঙ্কের জ্বালানি পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা হলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়ে, যা ভবিষ্যতে বড় অসুবিধার কারণ হতে পারে।