সরকার বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে, যার মূল স্লোগান হলো ‘গণভোট ২০২৬ এবং সংসদ নির্বাচন, দেশের চাবি আপনার হাতে’। সরকারের উদ্যোগে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন স্থানে লেখা হচ্ছে—‘পরিবর্তনের চাবি এবার আপনার হাতে’। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে অনেকের ধারণা স্পষ্ট হলেও, গণভোটের ব্যাপারে বেশিরভাগ মানুষের জ্ঞান এখনো সীমিত। এখন সময় এসেছে জানতে, কীভাবে এই গণভোট কার্যকর হবে এবং আপনি কীভাবে অংশগ্রহণ করবেন।
গণভোট কী?
– এটি একটি ভোট বা নির্বাচন, যেখানে সাধারণত প্রার্থী থাকলেও, গণভোটে কোনো প্রার্থী থাকে না।
– এতে ভোটাররা কিছু প্রস্তাব বা প্রশ্নের পক্ষে বা বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন।
গণভোট কেন প্রয়োজন?
গণতন্ত্র রক্ষায় গণভোটের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামত জানা যায়। এর কিছু প্রধান কারণ হলো:
– সংবিধান সংশোধনের সময় জনগণের অনুমোদন নেয়া;
– জাতীয় নীতিগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
– রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেTransparency এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;
– জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় মতামত গ্রহণ।
গণভোট কিভাবে হয়?
– প্রথমে সরকার বা সংসদ নির্ধারণ করে কোন ইস্যুতে গণভোট হবে।
– এরপর সংশ্লিষ্ট বিধিমালা বা বিল পাস হয় এর জন্য।
– প্রশ্নটি ব্যালটে এভাবে সাজানো হয় যেন ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ তে ভোট দিতে পারেন।
– নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করে, ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে।
– ভোটাররা নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
– ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে সবচেয়ে বেশি ভোট পায় তারটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ হবে।
আপনিও কীভাবে গনভোটে অংশ নেবেন?
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য জুলাই ২০২৫ সনের অনুমোদনের জন্য এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া হলো:
১. ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হলে আপনাকে দুটি ব্যালট দেওয়া হবে—একটি সাদা, অন্যটি গোলাপি।
২. সাদা ব্যালটটি প্রার্থী মনোনয়ন ও ভোটের জন্য, আর গোলাপি ব্যালট গণভোটের জন্য।
৩. প্রতিটি ব্যালটে আলাদা সিলমোহর দিয়ে দুটি ভিন্ন বাক্সে রাখতে হবে।
৪. প্রার্থী অথবা ম্যান্ডেটের জন্য সিলমোহর মেরে, আর গণভোটের জন্য ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর ওপর সিল দেয়া।
৫. পাশাপাশি, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ চিহ্নিত স্থানে টিক চিহ্ন বা √ চিহ্ন দিতে হবে।
ব্যালট পেপারে কী থাকবে?
ব্যালট পেপারে একটি প্রশ্ন থাকবে, যার উত্তর দেওয়ার জন্য দুটি অপশন—‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’। উভয় অপশনের পাশে থাকবে সংক্ষিপ্ত চিহ্ন: টিক বা √ চিহ্ন। প্রশ্নটি হবে:
‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়নের আদেশ ২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক সংস্কারসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
অর্থাৎ:
– নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন সনদ অনুযায়ী গঠিত হবে।
– আগামী জাতীয় সংসদ দুই কক্ষবিশিষ্ট হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিগুলোর ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।
– নারী প্রতিনিধি, বিরোধীদলীয় ডেপুটি স্পিকার, সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো কার্যকর হবে।
– জনগণের যে কোনো অংশগ্রহণ ও সমর্থন প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবায়ন হবে।
জীবনভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপনি নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এই গণভোটে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলো।









