বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশের স্থান ছিল ১৩তম। ১৮২টি দেশের এই তালিকায় বাংলাদেশের স্কোর ২৪ (১০০-এর স্কেলে), যা গ্লোবাল গড় স্কোর ৪২ এর চেয়ে কম। যদিও গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর ১ পয়েন্টে বেড়েছে, তবে সেই সঙ্গে দেশের র্যাঙ্কিং এক ধাপ পিছিয়ে গেছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ছিল তালিকার ১৪তম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের স্কোর ১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পাওয়া মূলত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিবাচক মূল্যায়নের কারণে, কিন্তু পাশাপাশি সংস্কারপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও মাঠ পর্যায়ের দুর্নীতির কারণে সার্বিকভাবে দেশের অবস্থান এক ধাপ পিছিয়েছে।’’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে ডেনমার্ক একেবারে শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে স্কোর ৮৯। এটি সর্বনিম্ন দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তালিকায় রয়েছে। এরপর রয়েছে ফিনল্যান্ড (৮৮) আর সিঙ্গাপুর (৮৪)। অন্যদিকে, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া, যেখানে স্কোর ৯। যৌথভাবে শীর্ষে থাকা এই দুটি দেশের দুর্নীতির ধারণার স্কোর ৯। এরপর আসে ভেনেজুয়েলা (৬), আর ইয়েমেন, লিবিয়া ও ইরিত্রিয়া স্কোর ১৩ নিয়ে তালিকার নীচে।
দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে, ভুটানের স্কোর ৭১, ভারতের ৩৯, মালদ্বীপের ৩৯, শ্রীলঙ্কার ৩৫, নেপালের ৩৪, পাকিস্তানের ২৮ এবং আফগানিস্তানের ১৬।
‘দুর্নীতির ধারণার স্কোর’ ০ থেকে ১০০ সূচক পরিমাপ করা হয়। যেখানে ০ মানের অর্থ দাজ্জাল দুর্নীতি এবং ১০০ মানে দুর্নীতির অভাব বা সর্বনিম্ন দুর্নীতি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত এই সূচকটি বাংলাদেশের জন্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, যেখানে দেশের দুর্নীতির অবস্থা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।









