আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) জারি করেছে নতুন নির্দেশনা। এর ফলে, নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির জন্য মোবাইল ব্যবহার বা রাখার অনুমতি থাকলেও, অন্যদের জন্য সম্পূর্ণ বাঁধা আরোপ করা হয়েছে।
নির্দেশনামতে, ভোটকেন্দ্রে কেবল পাঁচ ধরনের ব্যক্তিই মোবাইল ব্যবহার বা সঙ্গে রাখতে পারবেন। তারা হলেন: প্রিজাইডিং অফিসার বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা, নির্বাচনী ‘সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহারকারী দুজন নির্দিষ্ট আনসার সদস্য, দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক (নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে), এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তার এজেন্ট ও সাধারণ ভোটার।
অন্যদিকে, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টরা কোনোভাবেই মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন না। এ ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্য—যেমন পুলিশ ইনচার্জ ও অন্যান্য আনসার সদস্যেরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা ও নির্বাচন সুষ্ঠু নির্বাহের জন্য কোনো ব্যক্তি—ভোটার বা কর্মকর্তা—গোপন কক্ষে বা মার্কিং প্লেসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভোটের স্বচ্ছতা এবং গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সব কর্মকর্তা ও নির্বাচনজনিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মান্য করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রচারণার অংশ হিসেবে, এই নির্দেশনার অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ এবং মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট গ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে।









