ঢাকা | রবিবার | ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শি জিনপিং বরখাস্ত করলেন শীর্ষ জেনারেল ঝাং ইউজিয়াকে

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁর সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য এবং দীর্ঘদিনের এক ঘনিষ্ঠ মিত্র, জেনারেল ঝাং ইউজিয়াকে নাটকীয়ভাবে বরখাস্ত করেছেন। দেশটির সামরিক বাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদধারী এই জেনারেলের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের’ অভিযোগ এনে বেইজিংয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক কমিশনের (সিএমসি) চিফ অফ স্টাফ লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, ঝাংয়ের বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে যে তার বিরুদ্ধে চীনের অত্যন্ত গোপনীয় পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাচারের মতো অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চপদস্থ পদে পদোন্নতির বিনিময়ে বিশাল অংকের ঘুষ গ্রহণের কথাও উঠেছে।

দেশীয় প্রকাশনা লিবারেশন আর্মি ডেইলি এক সম্পাদকীয়তে জানিয়েছে যে এই জেনারেলরা কমিউনিস্ট পার্টির আস্থার প্রতি “গুরুতর বিশ্বাসঘাতকতা” করেছেন এবং সেনাবাহিনীর ওপর পার্টির একচ্ছত্র কর্তৃত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। এ ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতির তাৎপর্যকে আরও বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঝাং ছিলেন শি জিনপিংয়ের ছায়াসঙ্গী এবং সীমিত সংখ্যক যুদ্ধভিজ্ঞ সিনিয়র সেনানায়কদের একজন। তাকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে চীনের সামরিক আধুনিকীকরণ, কমান্ড কাঠামো ও তাইওয়ান নীতি—এসব ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে বলে তাদের ধারণা।

এর আগে ২০২২ সালে গঠিত সামরিক কমিশনের সাত শীর্ষ নেতার মধ্যে শি জিনপিংকে ছাড়া আবেদনযোগ্য বেশিরভাগকেই দুর্নীতির তদন্তের মুখে পড়তে দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অভিযান প্রমাণ করে যে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে শি জিনপিং নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষকেও ছাড় দিতে পিছপা নন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, লিবারেশন আর্মি ডেইলি