ঢাকা | রবিবার | ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বগুড়ার ‘নো ডাইস’ নেপাল আফ্রিকা চলচ্চিত্র উৎসবে হনারেবল মেনশন পেল

নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ১৪তম নেপাল আফ্রিকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (NAIFF) বগুড়ার তরুণ নির্মাতা সাগর ইসলাম পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নো ডাইস’ আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি পেয়েছে। উৎসবের Best International Short Film বিভাগে ছবিটি ‘হনারেবল মেনশন’ লাভ করে।

১৫ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আয়োজিত এই উৎসবে বিশ্বব্যাপী ২০টি দেশের ৪৩টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড ‘নো ডাইস’-এর বিষয়বস্তুর গভীরতা, নির্মাণশৈলী ও দার্শনিকভাবে উপস্থাপিত ভাবনাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করে বলে জানা গেছে।

নির্মাতা সাগর ইসলাম বলেন, ছবিটি জীবনের এক দুর্ধর্ষ সিদ্ধান্ত ও মানব অস্তিত্বের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নির্মিত; এখানে প্রতীকী ভাষা ও নিঃশব্দ উপস্থাপনার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে গল্প বলার অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং তাঁর পক্ষ থেকে আয়োজক ও জুরি বোর্ডকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

উৎসবে আরেকটি সুখবর ছিল বাংলাদেশের পক্ষে: বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম বিভাগে খন্দকার সুমনের ‘সাঁতাও’ পুরস্কার লাভ করে। একইভাবে শায়লা রহমান তিথীর পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঝরাপাতার চিঠি’ বেস্ট ওমেন ফিল্ম ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়।

এর আগে ‘নো ডাইস’ ইতালিতেও দুইটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে এবং বগুড়া ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে অফিসিয়াল সিলেকশনের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছিল। উৎসব পর্ব শেষে ছবিটি দেশ-বিদেশে অনলাইন স্ট্রিমিং ও নির্বাচিত বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আরও বেশি দর্শক ছবিটির ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন বলে নির্মাতা জানান।

চলচ্চিত্রটির সম্পাদনা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী তৌহিদ হোসেন চৌধুরী। আবহসঙ্গীত করেছেন অমিত চ্যাটার্জি, সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন অমিতাব অবাক। স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাগর ইসলাম, তানভিন নাফিসা, লাসাইফ রাতিন আশিও, মুশফিক সৌমিক, সাজিদ রহমান ও শহিদুর রহমান।

নেপাল আফ্রিকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার অর্জন স্থানীয় নির্মাণশৈলীকে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পরিচিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

(তথ্যসূত্র: আয়োজকরা ও প্রকাশিত প্রতিবেদন)