প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে অটল যে, সংশ্লিষ্ট তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা শেষে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার আওতায়। এই সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন আসবে না, এক দিন আগে বা পরে নয়।
গতকাল মঙ্গলবার, যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রখ্যাত কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা আগামী নির্বাচন, অন্যান্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রফেসর ইউনূস উল্লেখ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্রী করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, ভুয়া খবর প্রচার হচ্ছে, তবে জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে। তিনি আরও জানান, আগামী নির্বাচনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা করবে অন্তর্বর্তী সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে, গোম্বিস ও ট্যান বাংলাদেশের নির্বাচন, গণঅভ্যুত্থান, তরুণ আন্দোলন ও ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। গেম্বিস বলেন, ভুয়া খবর বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের প্রধান শত্রু। এ জন্য আরও জোরালো প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
প্রফেসর ইউনূস তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া তিনি ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন, তবে এখন বাংলাদেশে তা সম্ভব নয় কারণ মতদ্বৈধতায় অপরাধের অস্বীকার ও অনুশোচনার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, এখন সময় উপযুক্ত নয়, কারণ অপরাধীদের অনুতপ্ত হওয়ার কোনও संकेत নেই। বরং তারা দাবী করছে, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে নিহত তরুণরা সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত। তারা আসলে এক বর্বরোচিত অপরাধের জন্য নিজেকে অস্বীকার করে চলেছেন।
অতিরিক্ত হিসেবে, এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।









