ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

এডিপি থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছেঁটে ফেলা হলো

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং নানা অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবেলা করতে গিয়ে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে চলতি অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৩০ হাজার কোটি টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন।

চলমান অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত এডিপিতে সেটি কমে গিয়ে ২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। দেশের মূল অর্থনৈতিক পরিকল্পনার এই হ্রাসের মধ্যে বড় অবস্থানে রয়েছে মেগা প্রকল্পগুলো, যেখানে বরাদ্দের বড় অঙ্কের কাটা পড়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা, আর বৈদেশিক ঋণ থেকে বরাদ্দ হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। ফলে মূল এডিপির তুলনায় সরকারি তহবিলের মোট বরাদ্দ ১৬ হাজার কোটি টাকা কমে গেছে, আর বৈদেশিক ঋণ থেকে বরাদ্দ কমছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

বিশেষ করে, অনেক বড় প্রকল্পের বরাদ্দে বড় ধরনের সংকোচন দেখা গেছে। এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি কমেছে মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের বরাদ্দ। এর আগে এ প্রকল্পে ৮ হাজার ৬৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার বরাদ্দ ছিল, যা এখন কমে ৮০১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে—অর্থাৎ ৯১ শতাংশ বরাদ্দ কাটছাঁট।

তারপর রয়েছে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, যেখানে বর্তমান বরাদ্দ ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা থেকে কমে ১৯৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছ, অর্থাৎ ৭৩ শতাংশ হ্রাস। এছাড়া, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পে ৭৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকা থেকে ৩০৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এতে বরাদ্দের প্রায় ৭১ শতাংশ কমে গেছে।

অন্য দিকে, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৩৬৫ কোটি টাকাও কেটে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বরাদ্দ এখন ১৬৮ কোটি ৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগে ছিল ৪২৫ কোটি। এই প্রকল্পে বরাদ্দ কমে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

যোগেই রয়েছে মেট্রোরেল লাইন-৫ এবং লাইন-৬ প্রকল্পগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ কাটা। লাইন-৫ এর জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪৯০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা হ্রাস করে ৫৯২ কোটি ৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর কমে যাওয়ার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। একইভাবে, লাইন-৬ এর বরাদ্দও কমে ১ হাজার ৩৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার থেকে ৩২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। এটি প্রায় ২৪ শতাংশ হ্রাস।

এছাড়া, হাটিকুমরুল-রংপুর চার লেন হাইওয়েপ্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৮৭২ কোটি ৫ লাখ থেকে কমে ১ হাজার ৫৬২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ১৭ শতাংশের বেশি।

উপসংহারে, এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিগত অস্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যাপক ক্ষতি ডেকে আনছে। তৃণমূল পর্যায়ের প্রকল্প থেকে শুরু করে বড় মেগা প্রকল্প—allগুলোতেই বরাদ্দের ব্যাপক সংকোচন ঘটানো হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।