ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সরকারের উদ্যোগে ১৮ হাজার যুবককে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেয়া হবে

অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন যে, দেশের যুবকদের জন্য চালু করা ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পে ১৮ হাজার যুবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। রোববার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘দেশের ৪৮ জেলার শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক তিন মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা করেন। ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশের শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিংয়ের যে অব্যর্থ উপকারিতা রয়েছে, তা আরও বিস্তৃত ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—চাকরির পেছনে ঘুরতে হয় না। নিজেদের ব্যবসা বা অর্থ উপার্জনের জন্য বড় কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজনও পড়ে না। তিনি আরও বলেছিলেন, বাসায় বসেই আপনি বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারেন। এর জন্য বড় ধরনের দোকান বা অফিসের প্রয়োজন হয় না। ফ্রিল্যান্সিংয়ে দেশের যুবরা বিদেশি ও দেশীয় দালালের ঝামেলা থেকেও মুক্ত থাকে এবং তাদের কাজের স্থান ও সময়ের ওপর কোন বাধ্যবাধকতা নেই—এটি এই যুগের তথ্যপ্রযুক্তির যুগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপদেষ্টা ঠেলে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বহু যুবক ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই পেশায় সফলতা অর্জন করছে, এবং চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো এই সুযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করছে। তিনি জানান, আমরা এখনো এই উদ্যোগের সূচনায় আছি এবং এই প্রকল্পকে আরও বিস্তৃতি দিতে পারে—তাই এটি বন্ধের পরিবর্তে এর মাধ্যমে আরও বেশি যুবককে যুক্ত করতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ প্রকল্পের আওতায় ১৮ হাজার যুবকের প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে, যা তাঁকে মনে হয় আরও বড় পরিসরে হওয়া উচিত—উদাহরণস্বরূপ, ১৮ লাখ যুবককে। ড. আসিফ নজরুল ধন্যবাদ জানান প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সকলকে, বিশেষ করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষকে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলোকে কেবল শেষ হওয়ার মতো বন্ধ করে না দিয়ে, বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমি শিগগিরই এই প্রকল্পটির প্রধান বিষয়গুলো পর্যালোচনা করব, যাতে দেখাতে পারি, ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো যেন আরও মেইনস্ট্রিমে আনা যায়। তিনি স্পষ্ট করেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশের বেকারত্ব কমানো সম্ভব, এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর বিশাল অবদান থাকছে। তিনি বলেন, এই সুযোগগুলো গ্রহণে আমাদের প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্র প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরে সফল ফ্রিল্যান্সার বা উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যাতে প্রশিক্ষণার্থীরা অনুপ্রাণিত হয়। ইতিমধ্যে, ৩ মাসের এই প্রশিক্ষণ কোর্সের আওতায় ৪৮ জেলায় ৩টি ব্যাচে মোট ৩,৬০০ যুব-যুবনার প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জানানো হয়, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ২৯৯ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৮ হাজার ৮০০ তরুণের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বরে ২০২৫ পর্যন্ত, এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১০,৮০০ যুব সফলভাবে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তারা এখন দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করছে, যার পরিমাণ এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ ৩৯ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪ কোটি ২ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এই আয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশিক্ষণ চলাকালে জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর পর্যবেক্ষণে থাকছে, যাতে সব প্রশিক্ষণ ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুবরা নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।