ঢাকা | রবিবার | ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২০শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ঢামেকের পরিচালক: আহতদের মধ্যে কেউ গুলিবিদ্ধ নয়

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাধ্যমে ইনকিলাব মঞ্চের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে চলমান বিচার দাবির জন‌্য জনসাধারণের প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচির মধ্যেব গিয়েছিল। দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে আহত হন প্রায় ৬০ জন, যারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে, হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন, আহতদের মধ্যে কেউ গুলিবিদ্ধ বা পিলেট ইনজুরির শিকার নয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ সব তথ্য জানান।

তিনি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের বেশকিছু কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। এখন পর্যন্ত ৬০ জনের মতো রোগী রিসিভ করা হয়েছে, এর মধ্যে ৩০ জনের শরীরে এক্সটারনাল ইনজুরি পাওয়া গেছে। তবে গুলির সাহায্য কিংবা পিলেটের চোট পাওয়া কেউ নেই। আহতদের মধ্যে থাকছে স্কাল্প ইনজুরি, মুখে, পায়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন, যেগুলো লাঠি ও টিয়ারসেলের আঘাতে হয়েছে। কিছু রোগীর অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে, তবে এখনো কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি।

হাসপাতালের প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি পরিচালনার বিষয়েও পরিচালক জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বেশিরভাগ রোগী ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রাউড কন্ট্রোল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, সেখানে উপস্থিত ২০০ জন চিকিৎসক ও নার্সের কোনও অভাব নেই, কিন্তু মানুষজনের আচরণ ও সমন্বয় বেশ কঠিন। জরুরি বিভাগ আরও সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। একসাথে ২৫ জন রোগীর চিকিৎসা সম্ভব হলেও, অনেক সময় এক রোগীর সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১৫ জন উপস্থিত থাকেন, যা চিকিৎসায় সমস্যা তৈরি করে। তিনি আরও জানান, জুলাইতে বহু রোগীর চিকিৎসা তিনি দিয়েছেন এবং সেবা প্রদানে কোনও সমস্যা হবে না।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের অধীনে অনুষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নেন। এর কারণে পুলিশ সেখানে ব্যারিকেড দেয়।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ফাতিমা তাসনিম জুমা ও অন্যরা যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধার মুখোমুখি হন। পরে তাদের যেতে দেওয়া হলেও মারধরের অজুহাতে ফিরে আসতে হয়। এরপরই ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে জলকামান থেকে পানি ছোড়া হয়, এরপর সাউন্ড গ্রেনেড বা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার, লাঠিপেটা চালানো হয়। সেই সময় তারা বোতল ও ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করেন। এতে নেতাদের মধ্যে আছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসুর নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা।

ঘটনার কিছু সময় পরে, তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে পুলিশ ও সরকারের পক্ষ থেকে এ দাবি অস্বীকার করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেল থেকে ওসমান হাদিকে গুলির ভয়াল ঘটনার মধ্যে পড়ে, যেখানে মাথায় গুলি করে দệ। তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়; কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

আজকের খবর / বিএস