ঢাকা | বুধবার | ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বিমান এমডি ও চারজন কারাগারে

১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমদ শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন শফিকুর রহমানের বাসার আরও দুই গৃহকর্মী — রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম। এর আগে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া আসামিদের কারাগারে আটকের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঘটনাটির বিস্তারিত হলো, রবিবার রাতে উত্তরা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানান, বাসায় শিশুর দেখাশোনার জন্য কোনও কাউকে নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে মোস্তফা স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করেন এবং তারা জানান, যতই খরচা হোক না কেন, তাদের পছন্দমতো শিশুটি দেখাশোনা করবে। সেই অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথম দিকে মোস্তফার মাধ্যমে মোহনা নামে এক শিশুকে নিজের বাসায় কাজের জন্য দেন। গত বছরের ২ নভেম্বর মোহনাকে সুন্দরভাবে দেখা যায়, কিন্তু এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দেন আসামিরা। এরপর ৩১ জানুয়ারি বিথী মোস্তফাকে ফোন করেন, জানিয়ে মোহনা অসুস্থ, তাকে দেখতে যেতে যেতে। মোস্তফা গিয়ে দেখেন, মোহনার শরীরে ও হাতসহ বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। শিশুটি ভালভাবে কথা বলতে সক্ষম নয়। সাথী নামে একজনের কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি সঠিক উত্তর দিতে পারেন না। পরে মোস্তফা শিশুটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। জিজ্ঞাসাবাদে মোহনা জানায়, ২ নভেম্বরের পর থেকে আসামিদের দ্বারা তাকে মারধর ও অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তারা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে জ্বলন্ত খুন্তি দিয়ে পোড়ায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা করেন।