ঢাকা | বুধবার | ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

পবিত্র শবে বরাত আজ: মুসলমানদের জন্য ঐতিহাসিক রজনী

আজ মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালন করা হবে। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে মুসলমানরা এই মহাপাবিত্র্য রাতটি উদযাপন করেন। এই রাতে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন যে মোক্ষম অনুগ্রহ, রহমত ও ক্ষমার প্রাপ্তি ঘটে, তাই এই রজনীকে ‘সৌভাগ্যের রাত’ বা ‘লাইলাতুল বরাত’ বলা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পবিত্র শবে বরাতের এই মাহফিল উপলক্ষে এক বিশ্লেষণমূলক বাণী দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মহিমাময় রাতটি আল্লাহর রহমত লাভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক সময়, যেখানে মুসলমানরা ইবাদত, দান-সদকা, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া performed করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, এই রাতটি মানুষকে নিজের সাথে আত্মবিশ্লেষণ ও তওবা করার জন্য উৎসাহিত করে, যাতে করে গুনাহ থেকে পরিশুদ্ধ হয়ে জীবন পরিচালনা করতে পারে।

শবে বরাতের রাতে বিশেষ করে মসজিদে-মসজিদে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে, যেখানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

বাঁধভাঙা উৎসাহের মধ্য দিয়ে রাতের বিভিন্ন সময় ইসলামিক বক্তারা পবিত্র শবে বরাতের গুরুত্ব, ফজিলত ও তাৎপর্য তুলে ধরবেন। অনুষ্ঠান শেষে ব্যক্তি ব্যক্তিই নফল ইবাদত ও জিকির করবেন। রাতের বিভিন্ন অংশে বায়তুল মোকাররমের সারা রাত উন্মুক্ত থাকবে মুসল্লিদের জন্য। ফজরের নামাজের পর এই রাতের কর্মসূচির সমাপ্তি হবে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে, যা পরিচালনা করবেন স্থানীয় ইমামগণ।

এছাড়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি ও অন্যান্য সংগঠন এ বিষয়ে আলোচনা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে। বাংলাদেশের টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো এ অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার করবে। মুসল্লিরা রাতভর এই বিশ্বের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করবেন।

সব মিলিয়ে, শবে বরাত মুসলমানদের জন্য এক অপূর্ব পবিত্রতা ও অনুসন্ধানের রাত, যেখানে তারা আল্লাহর রহমত লাভের প্রত্যাশায় নিজেকে প্রস্তুত করেন।