ঢাকা | শুক্রবার | ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সশস্ত্রবাহিনী ভোটার-ব্যালট বাক্স রক্ষা ও নিরাপত্তায় প্রস্তুত

প্রায় দুই দশক পর এবার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সম্মিলিতভাবে মোতায়েন হচ্ছে ব্যাপক সংখ্যক সশস্ত্রবাহিনী। নির্বাচনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ও ভোটারদের নিরাপত্তা বজায় রাখা সহজ হবে। সারা দেশে লক্ষাধিক সেনা সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছে যাতে ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

বিগত জাতীয় নির্বাচনে সাধারণত প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার সেনা সদস্য দায়িত্ব পালন করতেন। তবে এবার প্রথমবারের মতো, ভোটের আঙিনাও সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তায় শক্তিশালীভাবে সজ্জিত হয়েছে। এই লক্ষ্যে তারা ভোট কেন্দ্রের কাছাকাছি পর্যন্ত মোতায়েন হচ্ছে, যা ভোটারদের আস্থা বাড়াতে এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের ওপর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সেনা সদর দফতরের সামরিক অপারেশন্স পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মো. মনজুর হোসেন বলেন, আগে যেখানে সেনা সদস্যরা দূরবর্তী এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় এলাকায় যাচ্ছিলেন, এবার তারা ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি পর্যন্ত মোতায়েন হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ভোটারদের আস্থা বাড়ানো এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি আরও জানান, এই মোতায়েন প্রক্রিয়া ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। তবে যানবাহনের ঘাটতির কারণে দুর্যোগ মোকাবিলায় অসামরিক প্রশাসনের সহায়তা požিত। প্রয়োজনে ভাড়ায় গাড়ি নেয়া হচ্ছে যাতে সেনা সদস্যরা টহল জোরদার করতে পারে।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করার জন্য নিরাপত্তা অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ পর্যন্ত মাত্র ১৪ দিনে প্রায় দেড় শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। গত ৩১ জানুয়ারির যশোরের বাহারপাড়া এলাকায় যৌথ অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল ও ১০টি গ্রেনেড সদৃশ হাতবোমা উদ্ধারসহ আরও অনেক খবর তিনি পেস করেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি অবৈধ অস্ত্র ও প্রায় ২ লাখ ৯১ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও, ২২ হাজার ২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাপ্রধানের নির্দেশনায়, নির্বাচনকালীন অসামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছে সেনা। সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে, দুর্বৃত্তচক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে থাকা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজনে সামরিক হেলিকপ্টার ও নৌযানের মাধ্যমে মোতায়েন করা হবে কর্মকর্তাদের এবং নির্বাচনি সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।

এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অডিও–ভিডিও ক্যামেরা ও আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। সার্বক্ষণিক মনিটরিং চালাচ্ছে সেনার কেন্দ্রীয় সেল, যা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেছে।

গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা জানিয়ে, গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির জন্য সাংবাদিক ও মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ভুয়া তথ্য ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে, তাই সত্য ঘটনা ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রচারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য বলা হয়েছে।

সর্বশেষ, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে synergistic ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, যা তাদের প্রস্তুতির পারদর্শিতা ও জোরালো উদ্যোগের ফলাফল।