ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কুয়াশায় যমুনায় আটকে থাকা বরযাত্রীরা উদ্ধার

ঘন কুয়াশার কারণে পথ হারিয়ে যমুনা নদীর মাঝখানে আটকে পড়া ৪৭ জন বরযাত্রীকে অবশেষে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াশার কিছুটা কেটে গেলে তারা অন্য দুইটি নৌকায় করে জীবনে ফিরে আসেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে মোড়ের বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া এলাকায়।

প্রথমে, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ব্যস্ত সময়ের পরে, বগুড়ার সারিয়াকান্দী থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিয়ে যাওয়া বরযাত্রীবাহী একটি নৌকা যমুনা নদীর মাঝখানে আটকা পড়ে। গভীর কুয়াশা এবং তীব্র শীতের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা নেই। নারী, শিশু এবং বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছেন এই সময়ে।

জানা যায়, সকালে, নিলয় হাসান ছানির (২০) বিয়ের জন্য ৪৭ জন বরযাত্রী বগুড়ার সাবগ্রামের চরমাথা এলাকা থেকে রওনা দেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে, রাতে ৬টার দিকে তারা সাবগামের কালীতলা ঘাট থেকে নৌকাযোগে মাদারগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। তবে, যমুনার মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর ঘন কুয়াশার কারণে নৌকার মাঝির দিকনির্দেশনা হারিয়ে যায়। রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তারা দীর্ঘ সময় নদীতে দিক খোঁজার চেষ্টা করেন, কিন্তু সফল হননি। এই পরিস্থিতিতে, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগের প্রচেষ্টা চালানো হয়, কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার ফলে তাৎক্ষণিক সহায়তা কেউ দিতে পারেননি। অবশেষে, সবার আশ্রয় নেওয়া হয় নদীর মাঝে নোঙর করে।

নৌকায় মোট ১৭ নারী ও ৯ শিশুসহ ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। শনিবার সকালে কুয়াশা কিছুটা কমলে, তারা দুটি আলাদাভাবে নৌকায় করে নিশ্চিন্তে জামথল ঘাটে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

বরযাত্রীর একজন রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় আমরা কৈশোরের মতোই নিবিড় কুয়াশার মধ্যে আমাদের রওনা দিয়েছিলাম। কিছু দূর যাওয়ার পরে মাঝির দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলি। তখন আমরা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে পড়ে গেলাম। বিকল্পভাবে মূল নৌকাকে নদীতেই রাখি, আর সেখানেই সারারাত অবস্থান করি। সকালে নতুন নৌকায় করে নিরাপদে জামথল ঘাটে পৌঁছাই। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী জানান, কুয়াশার কারণে পথ হারানো নৌকার যাত্রীরা অক্ষত রয়েছেন। দীর্ঘ সময় নদীতে থাকার পরও সবাই সুস্থ আছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সর্বোপরি, তারা সবাই ভালো আছেন, মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি।’

এখনো এই ঘটনার পুরো বিবরণে্স্তার প্রকাশ ঘটেনি। তবে, সবাই নিরাপদে থাকার জন্য আলহামদুলিল্লাহ জানানো হচ্ছে।